|

Renewable Energy ও FDI ২০২৬: বাংলাদেশের SME-দের জন্য কী সুযোগ আছে?

Sector-Specific FDI Series | পর্ব ১ শুরুতেই একটা প্রশ্ন আপনি যদি একজন SME founder হন একটু ভাবুন। আপনার কারখানায় বা অফিসে বিদ্যুৎ বিল কত? লোডশেডিং-এ কতটা ক্ষতি হয়? জেনারেটরে কত টাকা যায়?…

শুরুতেই একটা প্রশ্ন

আপনি যদি একজন SME founder হন একটু ভাবুন।

আপনার কারখানায় বা অফিসে বিদ্যুৎ বিল কত? লোডশেডিং-এ কতটা ক্ষতি হয়? জেনারেটরে কত টাকা যায়?

এই সমস্যাটা শুধু আপনার না। সারা বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের। এবং এই সমস্যার সমাধানকে ঘিরেই তৈরি হচ্ছে আগামী কয়েক বছরের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগের সুযোগ।

বাংলাদেশের মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ২৭,০০০ MW-এর বেশি। কিন্তু নবায়নযোগ্য শক্তির অংশ মাত্র ৫%-এর উপরে মোট ১,৫৫৯ MW, যার ৮১% আসছে সোলার থেকে (১,২৬৫ MW)।

লক্ষ্যমাত্রার দিকে তাকালে বোঝা যায় পার্থক্যটা কতটা বিশাল। সরকারের Renewable Energy Policy 2025 অনুযায়ী লক্ষ্য হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ২০% এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০% বিদ্যুৎ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনা।

বর্তমানে আছি ৫%-এ। লক্ষ্য ২০%। মানে আগামী ৫ বছরে চার গুণ বাড়াতে হবে।

এই লক্ষ্য পূরণ করতে ২০২৬ থেকে ২০৩০ সালের মধ্যে প্রতি বছর ৭৬০ MW নতুন নবায়নযোগ্য ক্ষমতা যোগ করতে হবে। এটা শুধু সরকারের পক্ষে সম্ভব না বেসরকারি খাত এবং FDI ছাড়া এই লক্ষ্য অধরাই থেকে যাবে।

বাজারের আকার বিশাল– বিদ্যুতের চাহিদা বার্ষিক ৭% হারে বাড়ছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে পিক ডিমান্ড ২৫,০০০ MW ছাড়িয়ে যাবে বলে পূর্বাভাস। এই চাহিদা মেটাতে বিনিয়োগের বিকল্প নেই।

সোলারের অর্থনীতি এখন আকর্ষণীয়-বাংলাদেশে সোলারের LCOE (Levelized Cost of Electricity) এখন ৯৭–১৩৫/MWh,যাকয়লার(৯৭–১৩৫/MWh, যা কয়লার (৯৭–১৩৫/MWh,যাকয়লার(১১০–১৫০/MWh) চেয়েও সস্তা হয়ে গেছে এবং গ্যাসের ($৮৮–১১৬/MWh) কাছাকাছি।

বিনিয়োগের পরিসংখ্যান কথা বলছে– এনার্জি সেক্টরে FDI ২০২২ সালেই পৌঁছেছিল ৩.৪৮ বিলিয়ন ডলারে। এটি সেক্টরটির প্রতি দীর্ঘমেয়াদি বৈশ্বিক আস্থার প্রমাণ।

প্রাকৃতিক সম্পদও অনুকূল– বাংলাদেশে সৌর বিকিরণ দৈনিক ৫ kWh/m², কার্যকর বায়ু গতি ৩–৪.৫ m/s, এবং উপকূলীয় জোয়ার-ভাটার সম্ভাবনাও রয়েছে। এর বাইরে NREL-এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০,০০০ km²-এরও বেশি জমি আছে যেখানে বাতাসের গতি ৫.৭৫–৭.৭৫ m/s যা থেকে ৩০,০০০ MW-এর বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।

এখানেই SME এবং বিদেশি বিনিয়োগকারী উভয়ের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্যটি।

এছাড়া কাস্টমস ডিউটি সর্বোচ্চ ৫% (২০২৮ সাল পর্যন্ত), বিদ্যুৎ উৎপাদনে VAT ছাড় এবং রেগুলেটরি ডিউটি মওকুফের সুবিধাও আছে।

বিদ্যুৎ খাতে বিদেশি বিনিয়োগে কোনো দেশ বা পরিমাণ নিয়ে বিধিনিষেধ নেই ১০০% বিদেশি মালিকানার SPV-ও জমির অধিকার রাখতে পারে।

শুধু সুযোগের কথা বললে চিত্র অসম্পূর্ণ থাকবে। বাস্তব বাধাগুলো জানা না থাকলে বিনিয়োগ পরিকল্পনা ভুল হবে।

বাধা ১ জমি সমস্যা: সবচেয়ে বড় দেয়াল

বাংলাদেশ পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ দেশগুলোর একটি। বড় আকারের সোলার ইনস্টলেশনের জন্য জমির সংকট প্রকট। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসারদের (IPP) প্রায়ই নিজেদেরই জমি সংগ্রহ করতে হয়, যা প্রকল্পে বিলম্ব ঘটায় এবং কমিউনিটি বিস্থাপনের ঝুঁকি তৈরি করে।

বাধা ২ গ্রিড সংযোগে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ

ট্রান্সমিশন লাইন নির্মাণ ও পরিচালনা এখনো সম্পূর্ণ সরকারি নিয়ন্ত্রণে বেসরকারি খাতের প্রবেশ নিষিদ্ধ। ফলে নতুন প্রকল্পকে সরকারি গ্রিডের উপর নির্ভর করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ।

বাধা ৩ নীতির অনিশ্চয়তা এবং ক্রেডিট ঝুঁকি

নীতিগত অনিশ্চয়তা, offtaker ঝুঁকি, মুদ্রা ঝুঁকি এবং সার্বভৌম ক্রেডিট রেটিং অবনতি এগুলো নবায়নযোগ্য শক্তি খাতে মূলধন প্রবাহকে সীমিত রাখছে।

বাধা ৪ আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া

অনুমোদন প্রক্রিয়া দীর্ঘ ও জটিল এটি প্রকল্প বাস্তবায়নে বিলম্ব ঘটায় এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের নিরুৎসাহিত করে

বড় utility-scale প্রকল্প হয়তো ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য নয়। কিন্তু পাঁচটি জায়গায় SME-রা এখনই প্রবেশ করতে পারেন:

১. Rooftop Solar: সবচেয়ে কম ঝুঁকির মডেল

শিল্প ও বাণিজ্যিক ভবনের ছাদে সৌরশক্তি স্থাপনের বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে। Net-metering নীতির আওতায় অতিরিক্ত বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করাও এখন সম্ভব। জমির ঝামেলা নেই, বিনিয়োগ কম, ROI দ্রুত।

২. Agri-Solar: দুই খাতে এক বিনিয়োগ

বাংলাদেশে গ্রিনহাউস-ভিত্তিক agri-solar সিস্টেমের খরচ €৯০–১৫০/m² যা এশিয়ার সবচেয়ে কম। কৃষিকাজের সাথে সোলার উৎপাদন একসাথে জমির সর্বোচ্চ ব্যবহার এবং দ্বৈত আয়।

৩. Solar Cold Storage: কৃষি খাতের জন্য গেম-চেঞ্জার

বাংলাদেশে কোল্ড স্টোরেজের তীব্র ঘাটতি আছে এবং সরকার ইতোমধ্যে সোলার-চালিত কোল্ড স্টোরেজ উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এটি কৃষি, মৎস্য ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ সেক্টরের জন্য একটি সরাসরি সুযোগ।

৪. বিদেশি কোম্পানির সাথে JV বা পার্টনারশিপ

বড় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে এলে তাদের দরকার হয় স্থানীয় অংশীদার ভূমি ব্যবস্থাপনা, নিয়ন্ত্রক প্রক্রিয়া এবং সাপ্লাই চেইনের জন্য। এখানে স্থানীয় SME-রা মূল্যবান ভূমিকা রাখতে পারেন।

৫. সার্ভিস ও সাপ্লাই চেইন

সোলার প্যানেল ইন্সটলেশন, মেইনটেন্যান্স, স্থানীয় সরবরাহ এই সহায়ক শিল্পে চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

সরকারের Renewable Energy Policy 2025 পূরণ করতে ২০৩০ সাল পর্যন্ত বছরে ৯৮০ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ দরকার। ২০৩০ পরবর্তী সময়ে ২০৪০ পর্যন্ত এই চাহিদা বেড়ে দাঁড়াবে বার্ষিক ১.৪৬ বিলিয়ন ডলারে।

এই বিনিয়োগের পুরোটা সরকার করবে না। বেসরকারি খাত এবং FDI-কে এই ঘাটতি পূরণ করতে হবে। সুযোগটা এখানেই।


Renewable Energy সেক্টরে বাংলাদেশের সুযোগ বাস্তব কিন্তু শর্তসাপেক্ষ। ট্যাক্স ছাড়, ক্রমহ্রাসমান সোলার খরচ এবং বিশাল চাহিদার ঘাটতি মিলে একটি বিরল মুহূর্ত তৈরি হয়েছে।

কিন্তু এই সুযোগের জানালা সীমিত। বেশিরভাগ ট্যাক্স সুবিধার সময়সীমা ২০২৮–২০৩০ সালের মধ্যে শেষ হয়ে যাবে।

SME হিসেবে আপনার কাছে তিনটি পথ খোলা: নিজে বিনিয়োগ করুন (Rooftop বা Agri-solar), বিদেশি বিনিয়োগকারীর স্থানীয় অংশীদার হন, অথবা সার্ভিস সেক্টরে ঢুকুন।

তিনটিতেই সম্ভাবনা আছে। পার্থক্য শুধু কতটা প্রস্তুত আপনি।


Read More

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *